সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ: তোপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন


 

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের আদেশগুলো সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সরকারের এই ধরনের আচরণ মার্কিন বিচার ব্যবস্থা এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সম্প্রতি ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ (AP) প্রকাশিত আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৫ মাসে অন্তত ৩১টি মামলায় প্রশাসন বিচারিক আদেশ লঙ্ঘন করেছে বা অবজ্ঞা করেছে বলে শনাক্ত করেছেন ফেডারেল বিচারকরা। এই মামলাগুলো প্রধানত অভিবাসন নীতি, সরকারি ব্যয় এবং কর্মসংস্থান হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত।

অভিবাসন নীতি নিয়ে আইনি লড়াই

আদালতের আদেশ অমান্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ পাওয়া গেছে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলাগুলোতে। গত বছর একটি ফেডারেল আদালত আদেশ দিয়েছিলেন যে, বন্ড শুনানি ছাড়া অভিবাসীদের আটকে রাখার নীতি বন্ধ করতে হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিচার বিভাগ আদালতের সেই নির্দেশ পুরোপুরি তোয়াক্কা না করে তাদের নীতি চালিয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারের এহেন আচরণ সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার ভারসাম্যকে ক্ষুণ্ণ করছে।" এছাড়া অভিবাসীদের মুক্তিতে বিলম্ব করা এবং আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও জব্দ করা মালামাল ফেরত না দেওয়ার মতো শত শত অভিযোগ বিচারকদের নজরে এসেছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর তুলনায় বর্তমান প্রশাসনের এই আচরণ অস্বাভাবিক। সাধারণত কোনো রায় পছন্দ না হলে সরকার উচ্চ আদালতে আপিল করে, কিন্তু রায় কার্যকর না করার নজির আগে তেমন দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নিম্ন আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করা হলে বিচার বিভাগের শক্তি কমে যাবে এবং জনগণের কাছে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হবে।


প্রশাসনের আত্মপক্ষ সমর্থন

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা আইনি সীমানার মধ্যেই কাজ করছেন। তাদের যুক্তি হলো, অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের রায় উচ্চ আদালতে গিয়ে বাতিল বা সংশোধিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তাদের অবস্থান সঠিক ছিল। তারা মনে করেন, উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে অনেক রায়কে পুরোপুরি কার্যকর করা বাস্তবসম্মত নয়।

উচ্চ আদালতের অবস্থান

এখন পর্যন্ত উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টে এই আইনি লড়াইয়ের ফল মিশ্র। পর্যালোচিত মামলাগুলোর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেছে অথবা প্রয়োগের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। প্রশাসনের সমর্থকরা এটিকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন, তবে সমালোচকরা বলছেন, চূড়ান্ত রায়ে জয়ী হওয়া মানে এই নয় যে নিম্ন আদালতের প্রাথমিক আদেশ অমান্য করা বৈধ।

বর্তমানে আরও বেশ কিছু মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলাগুলোর ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতা এবং বিচার বিভাগের কর্তৃত্বের সম্পর্ক কেমন হবে।

Munshi Firoz Al Mamun is a digital marketing strategist, PHP/Laravel developer, and journalist based in Bangladesh. He works on SEO, content strategy, and digital news publishing.

মন্তব্যসমূহ