সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ক্যান্সারমুক্ত আগামীর পথে অস্ট্রেলিয়া: এক দশকের মধ্যে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য

 


সিডনি: বিশ্বজুড়ে যখন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, তখন অস্ট্রেলিয়া এক অভূতপূর্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশটি বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে 'জরায়ুমুখ ক্যান্সার' (Cervical Cancer) নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী দশ বছরের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া থেকে এই মরণব্যাধি বিদায় নেবে।

জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এক মায়ের গল্প

টুউম্বা শহরের বাসিন্দা ক্রিসি ওয়াল্টার্স এক দশক ধরে এই ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন। যখন তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়, ঠিক তার ছয় মাস পরেই ধরা পড়ে যে তিনি উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার এই রোগ এখন মৃত্যুশয্যায় (টার্মিনাল)। ক্রিসি বলেন, "আমি চাই না আমার মেয়ে বা অন্য কেউ এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাক।" তার এই ইচ্ছাই এখন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় লক্ষ্য।

নির্মূলের মূল চাবিকাঠি: ভ্যাকসিন এবং স্ক্রিনিং

অস্ট্রেলিয়া এই লক্ষ্য পূরণে মূলত দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করছে:

  • বিদ্যালয়ভিত্তিক টিকাদান: ১২ ও ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই ভাইরাসটিই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ।

  • নিয়মিত পরীক্ষা: দেশটির 'জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি'র মাধ্যমে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই রোগ আর বংশবিস্তার করতে না পারে।

আশার আলো দেখাচ্ছে পরিসংখ্যান

ইউনিভার্সিটি অফ সিডনির মহামারি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর কারেন ক্যানফেল জানান যে, এটি এমন একটি ক্যান্সার যা টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার এই সাহসী উদ্যোগের ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যেই দেশটি জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে (প্রতি ১ লাখে ৪ জনের কম আক্রান্ত) পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সফল হলে অস্ট্রেলিয়া সারা বিশ্বের জন্য এক রোল মডেল হয়ে উঠবে, যা প্রমাণ করবে সঠিক পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে একটি প্রাণঘাতী ক্যান্সারকেও জয় করা সম্ভব।

Munshi Firoz Al Mamun is a digital marketing strategist, PHP/Laravel developer, and journalist based in Bangladesh. He works on SEO, content strategy, and digital news publishing.

মন্তব্যসমূহ