সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

১৯৯৬ সালের বিমান হামলার জেরে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা

 

মায়ামি ডেস্ক: তিন দশক আগের একটি বিতর্কিত ঘটনার রেশ ধরে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

গত বুধবার মায়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অভিযোগপত্রটি প্রকাশ করা হয়, যা কিউবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তপ্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঘটনার পটভূমি: ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি

১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মায়ামি-ভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংগঠন 'ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ'-এর তিনটি সেসনা বিমান ফ্লোরিডা প্রণালীর ওপর দিয়ে উড়ছিল।

অভিযোগ রয়েছে যে, সে সময় কিউবার সামরিক বাহিনীর মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় থাকা এই বেসামরিক বিমানগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে দুটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিমানে থাকা চারজন—কার্লোস কোস্তা, আরমান্ডো আলেজান্দ্রে জুনিয়র, মারিও দে লা পেনা এবং পাবলো মোরালেস—নিহত হন।

মামলার অভিযোগসমূহ

মার্কিন ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির দেওয়া অভিযোগপত্রে রাউল কাস্ত্রোকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো:

  • মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র: তৎকালীন কিউবার প্রতিরক্ষা প্রধান হিসেবে রাউল কাস্ত্রো এই অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • হত্যা ও বিমান ধ্বংস: চার ব্যক্তিকে হত্যার পাশাপাশি দুটি বেসামরিক বিমান ধ্বংসের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

  • দায়বদ্ধতা: মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার সময় কিউবার সামরিক চেইন অব কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন কাস্ত্রো, তাই এই হামলার সরাসরি দায় তার ওপরই বর্তায়।

প্রশাসনের কঠোর বার্তা

মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মায়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নাগরিকদের ওপর হওয়া এই নির্মমতার কথা ভুলে যাননি।"

তিনি আরও জানান যে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আশা করছে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।

হাভানার প্রতিক্রিয়া ও ভূ-রাজনীতি

কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই আইনি পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, এটি কিউবার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সামরিক আগ্রাসনের একটি অজুহাত মাত্র। কিউবা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, বিমানগুলো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলাটি কিউবার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের "সর্বোচ্চ চাপ" (Maximum Pressure) প্রয়োগের কৌশলের অংশ।

এর আগে জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় কাস্ত্রোকে ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে।

Munshi Firoz Al Mamun is a digital marketing strategist, PHP/Laravel developer, and journalist based in Bangladesh. He works on SEO, content strategy, and digital news publishing.

মন্তব্যসমূহ