নিজস্ব প্রতিবেদক
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির North South University ইএইএস প্লাস সেন্টার এবং International Labour Organization (আইএলও)’র যৌথ উদ্যোগে ‘অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ বিষয়ক একটি সমন্বিত সার্টিফিকেট কোর্স উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরামর্শমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৪ মে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত কোর্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আরিফ আহমেদ খান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক নেসার ইউ. আহমেদ।
এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি এপিলিয়ন গ্রুপ, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিকেএমইএ, মোনাকো লিমিটেড এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, Bangladesh University of Engineering and Technology (বুয়েট) এবং Military Institute of Science and Technology (মিস্ট)-এর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ
অধ্যাপক নেসার ইউ. আহমেদ তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থাগুলোর সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে আইএলও’র লেবার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস (এলএডব্লিউসি) ক্লাস্টারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামজুথান বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে এনএসইউ’র ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও আইএলও’র সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
কোর্স কারিকুলাম নিয়ে মতবিনিময়
কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত কোর্স মডিউল উপস্থাপন করেন ড. মাহমুদ এ. শরীফ ও শাহরিয়ার ইকবাল রাজ। তারা কোর্সের লক্ষ্য, কাঠামো এবং সমসাময়িক কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশগ্রহণকারীরা কোর্স পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীর জন্য সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি, পেশাগত রোগসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রশিক্ষণের সময়সীমা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তায় বাস্তবায়ন
উদ্যোগটি আইএলও’র “অ্যাডভান্সিং ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ এবং ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও কানাডার সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আয়োজকরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশে অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন