সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জন: ২০২৬ সালের 'সান্তা মার্তা' চুক্তি ও আগামীর রোডম্যাপ

 


সান্তা মার্তা, কলম্বিয়া – ২০২৬ সালকে বৈশ্বিক পরিবেশ রাজনীতির জন্য 'বাস্তবায়নের বছর' হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মে মাসের শুরুতে কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংলাপে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার জন্য একটি কঠোর এবং আইনি কাঠামোর ওপর একমত হয়েছে। এই সম্মেলনে 'সান্তা মার্তা অ্যাকর্ড' বা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বর্তমান কয়লা ও গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ (Decommissioning) করা যায়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তা

সান্তা মার্তা চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রতিটি দেশের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ম্যানুয়াল বা গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে।

  • বাধ্যতামূলক ডিকমিশনিং শিডিউল: চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের বিদ্যমান কয়লা ও গ্যাস ভিত্তিক অবকাঠামো ধাপে ধাপে বন্ধ করার একটি আইনি সময়সীমা দিতে সম্মত হয়েছে।

  • বিকল্প জ্বালানি একীকরণ: পুরাতন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি সেখানে গ্রিন হাইড্রোজেন এবং উন্নত ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনের প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

  • আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা: উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তিতে যেতে পারে, সেজন্য একটি নতুন বৈশ্বিক তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সাম্প্রতিক পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অর্জন (মে ২০২৬)

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের এই কঠিন যাত্রায় নতুন প্রযুক্তি বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে:

  • গ্রিন হাইড্রোজেন উদ্ভাবন: মে ২, ২০২৬-এ যুক্তরাজ্যের গবেষকরা বিসমাথ ভ্যানাডেট ($\beta$-BiVO₄) ব্যবহার করে সূর্যালোক থেকে হাইড্রোজেন তৈরির দক্ষতা ১৫% বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, যা ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে।

  • কার্বন ক্যাপচার ও রূপান্তর: সার্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি নতুন চিপ তৈরি করেছেন যা শিল্প কারখানার নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সরাসরি বিমানে ব্যবহারের জ্বালানিতে রূপান্তর করতে সক্ষম।

  • বন রক্ষা ও সিসিইউএস: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত 'ডিজিটাল ক্যানোপি' সিস্টেমের মাধ্যমে ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় ২২% কমানো সম্ভব হয়েছে, যা বায়ুমণ্ডলের কার্বন শোষণে বড় ভূমিকা রাখছে।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ মোড়

২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তি কয়লাকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট বিদ্যুতের ৩৩.৮% আসছে পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে। চীন এবং ভারতের মতো দেশগুলোতেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত: ২০২৬ সালের 'স্টেট অফ ফাইন্যান্স ফর নেচার' রিপোর্ট সতর্ক করেছে যে, এখনও পরিবেশ রক্ষার চেয়ে পরিবেশ বিনাশকারী কাজে (যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি) ৩০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই সান্তা মার্তা চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য এই ভর্তুকির টাকা সরাসরি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার প্রকল্পে ব্যয় করা এখন সময়ের দাবি।

আগামী আগস্টে মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ মরুভূমিকরণ বিরোধী সম্মেলনে (UNCCD COP 17) এই ডিকমিশনিং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মিডিয়া যোগাযোগ:

Munshi Firoz Al Mamun is a digital marketing strategist, PHP/Laravel developer, and journalist based in Bangladesh. He works on SEO, content strategy, and digital news publishing.

মন্তব্যসমূহ